চিজ এর দাম কত ২০২৩

চিজ এর দাম কত - হ্যালো, প্রিয় বন্ধুরা। কেমন আছেন সবাই। আশাকরি, সকলেই আল্লাহর দোয়াই ভালো আছেন। আমি আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব। চিজ এর দাম কত?

চিজ হলো এক ধরনের খাবার। যেটা গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের দুধ থেকে তৈরি হয়। চিজে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন থাকে। যাদের শরিলে প্রোটিনের অভাব তারা চাইলে, চিজ খেতে পারেন। আপনি যদি, আজকের আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েন। তাহলে, আপনি চিজ এর দাম ও বিস্তারিত বিষয়গুলো জানতে পারবেন।

চিজ এর দাম কত ২০২৩
চিজ এর দাম কত ২০২৩

চিজ এর দাম কত ২০২৩

মোজারেলা চিজ (Mozzarella Cheese) ২০০ গ্রাম এর দাম মাত্র ৳২২০ টাকা। মেলবোর্ন স্লাইসড চিজ ২০০ গ্রাম (১২ টুকরা) দাম মাত্র ৳২৩৫ টাকা। প্রান ঢাকা চিজ ২২৫ গ্রাম মাত্র ৳১৫০ টাকা। এছাড়া বাংলাদেশে অনেক কোম্পানীর চিজ পাওয়া যায়। আপনাদের যার যেটা পচ্ছন্দ সেটা ক্রয় করতে পারেন।

মোজারেলা চিজ এর দাম কত ২০২৩

বর্তমান সময়ে মোজারেলা চিজ ২০০ গ্রাম এর দাম মাত্র ৳২২০ টাকা। আপনারা আপনাদের আশে পাশের যে কোন মুদির দোকান থেকে ক্রয় করতে পারবেন। তবে অবশ্যই উৎপাদনের তারিখ চেক করে কিনবেন।

আপনারা হয়ত, অনেকেই জানেন চিজ মানে হল পনির। বর্তমান সময়ে পনিরের ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি রাস্তাঘাটে চলা ফেরা করার সময় দেখতে পাবেন। অনেক ফাস্টফুডেরর দোকান রয়েছে। বর্তমান সময়ে চিজ দিয়ে ডিমেরর ওমলেট তৈরি করছে। এছাড়া বিভিন্ন ফাস্টফুড তৈরিততে চিজ ব্যবহার করছে। আমরা প্রথমেই বলেছি, চিজে প্রচুর পরিমানে প্রৌটিন থাকে।

চিজ কি?

চিজ বা পনির একটি দুগ্ধ জাতীয় খাবার যা শত শত বছর ধরে বিশ্বব্যাপী মানুষ তৈরি করছে। চিজ বা পনির তৈরি হয় দুধ থেকে, যা গরু, ছাগল, মহিষ বা ভেড়ার দুধ থেকে তৈরি হয়। চিজ এর বিভিন্ন স্বাদ এবং উপাদান দুধের মাখন থেকে তৈরি করা হয়। চিজ এর উৎপাদন প্রক্রিয়া, সাধারনত আদিমকাল থেকে চলছে। প্রত্যকের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। আর! চিজ এমন একটি খাদ্য যেটি সকল শ্রেনীর মানুষ খেতে পারে। কিন্তু! প্রত্যকটা জিনিস নিয়ম মেনে খেতে হবে। তাহলে, কোন সমস্যার সৃষ্টি হবে না।

চিজ এর পুষ্টি উপাদান

আমরা এবার চিজ বা পনিরের পুষ্টি উপাদানের একটি সারণী তৈরি করেছি। এছাড়া, আমরা এখানে প্রতি 100 গ্রাম দৈনিক মূল্যের (DV) শতাংশ অনুসারে সাজিয়েছি।

  • প্রোটিন - 25 গ্রাম (50%)
  • ক্যালসিয়াম - 720 মিলিগ্রাম (144%)
  • ভিটামিন A - 200 আন্তর্জাতিক ইউনিট (4%)
  • ভিটামিন B12 - 1.2 মাইক্রোগ্রাম (48%)
  • ভিটামিন K - 12 এমসিজি (140%)
  • সোডিয়াম - 1,300 মিলিগ্রাম (56%)
  • Total Fat - 33 গ্রাম (55%)
  • স্যাচুরেটেড ফ্যাট - 17 গ্রাম (85%)
  • কোলেস্টেরল - 99 মিলিগ্রাম (33%)

দয়া করে মনে রাখবেন, যে এই মানগুলি চিজ এর ধরন ও পরিবেশনের আকারের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই, অবশ্যই আপনাদের পনির বা চিজ গ্রহন করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এছাড়া, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, চিজে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি 12, ভিটামিন কে এবং সোডিয়ামের একটি ভাল উৎস। তবে, এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কোলেস্টেরলও বেশি থাকে। আপনি যদি আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন তবে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং সোডিয়াম কম থাকে এমন চিজ খাওয়া গুরুত্বপূর্ন।

চিজ এর উপকারিতা

চিজ বা পনিরে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং ভিটামিন A এবং B12 সহ অনেক পুষ্টির সম্পূর্ণ উপাদান থাকে। এতে অল্প পরিমাণে কনজুগেটেড লিনোলিক অ্যাসিড (CLA), একটি স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রয়েছে যা স্থূলতা এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। তবে, চলুন আমরা এখন কয়েকটি চিজ এর উপকারিতা নিয়ে নিন্মে আলোচনা করি।

  • হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ক্যালসিয়াম একটি ভালো উৎস, যা মজবুত হাড় ও দাঁতের জন্য অপরিহার্য। চিজ এ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেমন ভিটামিন ডি এবং ফসফরাস।
  • চিজ প্রোটিনের একটি ভাল উৎস, যা পেশীর ভর তৈরি এবং বজায় রাখতে সয়হতা করে। এছাড়া, এটিতে হুই প্রোটিনও রয়েছে, যা এক ধরনের প্রোটিন যা সহজেই হজম হয় এবং শরীর দ্বারা শোষিত হয়।
  • কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে চিজ খাওয়ার পর হৃদরোগের ঝুঁকি কম হতে পারে। এটি চিজ এ CLA এর উপস্থিতির কারণে হচ্ছে বলে মনে করা হয়, সেইসাথে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যা প্রদাহ কমাতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত করতে সয়হতা করে।
  • চিজ এ কেসিন থাকে, এটি একটা প্রোটিন যা দাঁতকে শক্তিশালী করতে এবং গহ্বরের ঝুঁকি কমাতে সয়হতা করে।এছাড়া, এতে ক্যালসিয়ামও রয়েছে, যা সুস্থ দাঁতের জন্য অপরিহার্য।
  • আপনিযদি স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে, চিজ বা পনির একটি সহায়ক খাবার হতে পারে। এছাড়া, এটি একটি ক্যালোরি-ঘন খাবার যা প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টির একটি ভাল উৎস।

যাইহোক, আপনারা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। যে পনির বা চিজে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং সোডিয়াম থাকে। তাই স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হিসেবে পরিমাণ মত চিজ ও পনির খাওয়া প্রয়োজন।

চিজ এর অপকারিতা

চিজ ও পনির একটি সুস্বাদু এবং বহুমুখী খাবার, তবে এটিতে ক্যালোরি, ফ্যাট এবং সোডিয়াম ও বেশি পরিমানে থাকে। চিজ বা পনির খাওয়াই যেমন উপকার রয়েছে। তেমনি চিজ বা পনির খাওয়াই তেমনি কিছু অপকারিতা রয়েছে। যে গুলো আপনার স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। নিন্সে চিজ বা পনিরের অপকারিতা দেওয়া হল।

  • চিজ একটি ক্যালোরি-ঘন খাবার, যার অর্থ হল অল্প পরিমাণে খাবারে প্রচুর পরিমানে ক্যালোরি থাকে। আপনি যদি চিজ বা পনির অতিরিক্ত মাত্রায় খান। তাহলে, আপনার  ওজন বাড়াতে পারে। এছাড়া, পনিরে স্যাচুরেটেড ফ্যাটও বেশি থাকে, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি যেমন কমায় তেমনি বাড়াতে পারে। এই জন্য পরিমাণ মত চিজ খেতে হবে। আপনারা এটার জন্য অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।
  • চিজ এ প্রায়শই সোডিয়াম বেশি থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ ঘটাতে রাখতে পারে। আপনি যদি আপনার সোডিয়াম গ্রহণের দিকে নজর রাখেন, তাহলে সোডিয়াম কম থাকে এমন চিজ বেছে নিতে পারেন।
  • কিছু লোকের পনির  বা চিজ থেকে অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। পনির খাওয়ার ফলে আমবাত, ফোলাভাব এবং শ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আপনার যদি অ্যালার্জি জনিত কোন সমস্যা থাকে তবে পনির বা চিজ খাওয়ার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উটিত।
  • চিজে ল্যাকটোজ থাকে, এটি একটি চিনি যা কিছু মানুষ হজম করতে পারে না। আপনি যদি ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু হন তবে চিজ খাওয়ার ফলে গ্যাস, ফোলাভাব এবং ডায়রিয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত মাত্রায় চিজ খেলে শ্বাসরোধের ঝুঁকি হতে পারে, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের এবং বয়স্কদের জন্য। এই ধরনের লোকেদের পনির বা চিজ খাওয়ার আগে চিজ ছোট ছোট টুকরো করে কাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনারা হয়ত জানেন, পনির একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য।তবে এটি পরিমানমত খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি পনিরের অসুবিধা সম্পর্কে না জানেন। তবে,  ব্যক্তিগত পরামর্শের জন্য আপনাদের অবশ্যই ডাক্তার বা নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ানের সাথে পরিমর্শ করা উচিত।

চিজ খাওয়ার নিয়ম

আমরা এবার আপনাদের সাথে শেয়ার করব। কিভাবে আপনারা চিজ বা পনির খাবেন। এতে করে, আপনাদের পনির বা চিজ শরিরের জন্য কোন রকম সমস্যার সৃষ্টি করবে না। আপনারা যদি জানতে চান, পনির বা চিজ খাওয়ার নিয়ম। তাহলে, আপনারা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। নিন্মে কয়েকটি চিজ খাওয়ার নিয়ম শেয়ার করা হল।

  • চিজ বা পনির সতেজতা বজায় রাখতে রেফ্রিজারেটরে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। বেশিরভাগ চিজ ঠান্ডা ও আর্দ্র পরিবেশে সংরক্ষণ করা উচিত। এছাড়া, চিজ বা পনির মোমের কাগজে শক্তভাবে মুড়ে দিন যাতে করে পনিরে বাতাস লাগতে না পারে এবং চিজ শুকিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকে।
  • পনির বা চিজ এর স্বাদ এবং টেক্সচার বাড়াতে উপযুক্তভাবে পরিবেশন করুন। নরম এবং তাজা পনিরগুলি সাধারণত ঘরের স্বাবাভিক তাপমাত্রায় উপভোগ করা উচিত, যখন আধা-হার্ড এবং হার্ড চিজগুলি প্রায়শই সামান্য ঠান্ডা হয়, ঠিক তখনি পরিবেশন করা উচিত।
  • চিজ বা পনির বোর্ড তৈরি করার সময়, বিভিন্ন ধরণের পনির অফার করুন, যেমন নরম, আধা-নরম, আধা-হার্ড এবং শক্ত। বিভিন্ন স্বাদের জন্য বিভিন্ন স্বাদ এবং টেক্সচার অন্তর্ভুক্ত করুন। ক্র্যাকার, রুটি, তাজা বা শুকনো ফল, বাদাম এবং মশলাগুলির মতো পরিপূরক আইটেমগুলির সাথে পনিরের ব্যবহার করুন।
  • বিভিন্ন চিজ বা পনিরের স্বাদ অভিন্ন এড়াতে পৃথক ছুরি, চামচ বা পাত্র ব্যবহার করুন। নরম পনিরগুলি ক্র্যাকার বা রুটির উপর লাগিয়ে খাওয়া যেতে পারে, এছাড়া, শক্ত চিজগুলিকে টুকরো বা টুকরো করে কেটে সেটি বিভিন্ন খাবারের সাথে খেতে পারবেন।
  • পনির আপনি সকালে রুটি কিংবা পাউরুটির উপরে লাগিয়ে খেতে পারেন। এছাড়া, আপনি চিজ এর ছোট ছোট পিস করে ও খেতে পারেন।

চিজ খাওয়ার নিয়ম গুলো জানতে চাইলে, আপনি অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। কারন, আমরা কোন ডাক্তার নই। আমরা হয়ত বা কয়েকটি নিয়ম সম্পর্কে জানি। তাই, আপনার যদি নিয়ম গুলো জানার প্রয়োজন হয় তবে, ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আমাদের শেষকথাঃ

আশাকরি আপনারা জানতে পেরেছেন, চিজ এর দাম কত? এবং চিজ কি কাজে ব্যবহার করা হয়। আজকের আর্টিকেলটি যদি, ভালো লাগে। তবে, আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url